দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েন ৬০ বছর বয়সী মুয়াজ্জিন রোমান মোল্যা। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পরও নিজের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেননি তিনি। ঘরে স্ত্রীর মরদেহ রেখে প্রতিদিনের মতো ফজরের আজান দিতে এবং নামাজ আদায় করতে মালিডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে যান তিনি। কিন্তু কে জানত, সেদিনের ফজরের নামাজই হতে যাচ্ছে তাঁর জীবনের শেষ নামাজ!
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা-যত্ন করে আসছিলেন রোমান মোল্যা। একসময় স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। এরই মধ্যে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান তিনি। নামাজ চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এই প্রবীণ মুয়াজ্জিন। উপস্থিত মুসল্লিরা তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মসজিদের ভেতরেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
স্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীকে হারানোর পর অল্প সময়ের ব্যবধানে রোমান মোল্যার চলে যাওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। যে মানুষটি প্রতিদিন মসজিদে আজান দিয়ে মুসল্লিদের নামাজের জন্য আহ্বান জানাতেন, সেই মসজিদেই তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত কাটল।
এদিকে, এই দম্পতির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। পরে জোহরের নামাজের পর তাঁদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কুয়েত প্রবাসী ছেলে দেশে ফেরার পর বাবা-মায়ের দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানা গেছে।
একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক বিদায়ে শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট : সালমান বিন হেলাল