বাঁশখালী উপকূলে ভাঙন ঝুঁকি: জরুরি অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের নির্দেশ এমপি
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় জোয়ারের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ঘিরে ভাঙনঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রেমাশিয়া এলাকায় ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে জহিরুল ইসলাম এমপি বলেন, জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সে লক্ষ্যে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে নিয়মিত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় মাটি সংকট থাকলেও বিকল্প হিসেবে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে, যাতে সাময়িকভাবে হলেও ঝুঁকি কমানো যায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বদরুল হক, উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসমাইল, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁশখালীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল, পিডিএল-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মুহাম্মদ সাদিকুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মহি উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সাইফুল ইসলাম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ, সমাজসেবক আলী নেওয়াজ চৌধুরী ইরান এবং ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর দেলোয়ার হোসাইনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় চার মাস আগে জোয়ারের প্রভাবে খানখানাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রেমাশিয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই এলাকাটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং জোয়ারের পানিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।