বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা ফিজিওথেরাপি সেবার মানোন্নয়ন ও বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের দাবি
আপডেট সময়:
Tuesday, September 8, 2026
/
8 বার দেখা
/
শেয়ার করুন
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা
ফিজিওথেরাপি সেবার মানোন্নয়ন ও বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের দাবি
চট্টগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফিজিওথেরাপি প্র্যাক্টিশনারস, চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফিজিওথেরাপি পেশাজীবী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ বছরের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো-
“হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা।”
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফিজিওথেরাপি প্র্যাক্টিশনারস, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপিস্ট জনাব ডক্টর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জনকণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক, চট্টগ্রাম জনাব মোয়াজ্জেমুল হক।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগ ও স্ট্রোক অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসব রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড ও বৈজ্ঞানিক ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রোগীর শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, চলাফেরার দক্ষতা বৃদ্ধি, দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ফিজিওথেরাপিস্টদের ভূমিকা অপরিসীম।
সভাপতি, জনাব ডক্টর কামরুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি ও অন্যান্য পুনর্বাসনসেবা একটি সুসংগঠিত, নিরাপদ ও মানসম্মত কাঠামোর আওতায় পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ স্বীকৃতি ও অনুমোদনের আওতায় আনা এবং যোগ্য পেশাজীবীদের নিবন্ধনের মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পুনর্বাসনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তারা বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, মেরুদণ্ড ও অস্থিসন্ধির সমস্যা, দুর্ঘটনাজনিত আঘাতসহ নানা কারণে পুনর্বাসনসেবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাই আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবাকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি।
জনাব মো: শহিদ খান বলেন, বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস কেবল একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ দিবসের মাধ্যমে জনগণের মাঝে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা এবং একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮-এর যথাযথ বাস্তবায়ন, ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের নিবন্ধন ও পেশাগত মান নিশ্চিতকরণ এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ফিজিওথেরাপিস্টদের যথাযথ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব মোয়াজ্জেমুল হক বলেন, ফিজিওথেরাপি বর্তমানে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধু ব্যথা নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রোগ প্রতিরোধ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা ও রোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ পেশার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যুরো প্রধান, সহ- সম্পাদক, সাংবাদিক ও প্রতিনিধিবৃন্দ র্যালি ও আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে কর্মসূচিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও সক্রিয় জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিশেষে বক্তারা বলেন, “সুস্থ দেহ, সচল জীবন ও স্বনির্ভর সমাজ গঠনে ফিজিওথেরাপির বিকল্প নেই।” ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার যথাযথ বিকাশের মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমান আরও উন্নত হবে-এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।