October 1, 2026, 10:46 pm
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল সিলেট জেলা কমিটিকে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির অভিনন্দন রাউজানে গর্জনিয়া রহমানিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নাবী(দঃ)উপলক্ষে মাহফিল অনুষ্ঠিত নানিয়ারচরে চেঙ্গী নদীতে অবৈধ জাল অপসারণ ও যানজট নিরসনে প্রশাসনের হুঁশিয়ারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ: দেশপ্রেম, ত্যাগ ও নীতির রাজনীতি ছাগলকে কাদা দেওয়া নিয়ে বিধবা নারীকে মারধরের চেষ্টার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আহত চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়াকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান  আবারক আলী তাড়াশে মাদক সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের উদ্যোগে শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত সিংড়ায় জুয়ার আসর নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে প্রতিবাদ, তথ্য যাচাইয়ের দাবি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নানা আয়োজনে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ: দেশপ্রেম, ত্যাগ ও নীতির রাজনীতি

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ: দেশপ্রেম, ত্যাগ ও নীতির রাজনীতি

 

অনেকেই নিজেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করা শুধু তাঁর নাম উচ্চারণ, ছবি বহন কিংবা স্লোগান দেওয়ার বিষয় নয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবন বলে—দেশপ্রেম, জনগণের অধিকার, ব্যক্তিগত ত্যাগ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং নীতির প্রশ্নে দৃঢ়তাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

 

নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে তাই শুধু একজন ঐতিহাসিক নেতা হিসেবে নয়, তাঁর রাজনৈতিক চরিত্র ও জীবনদর্শনের আলোকে জানা জরুরি।

 

বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় প্রমাণ তাঁর নিজের জীবন। পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনামলে তিনি প্রায় ১২ বছর কারাগারে এবং দীর্ঘ সময় সরকারি নজরদারিতে ছিলেন। পরিবার, সন্তান, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বারবার বিচ্ছিন্ন হয়েও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি।

 

অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তাঁর উপলব্ধি ছিল—

 

“দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালবাসলে ত্যাগ তো করতেই হবে।”

 

এই একটি বাক্যেই যেন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। তাঁর কাছে রাজনীতি ব্যক্তিগত প্রাপ্তির পথ ছিল না; ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব।

 

কারাগারের রোজনামচাতেও তাঁর বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়—ত্যাগের মাধ্যমেই আদর্শের জয় হয়। আর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আদর্শের মিল না থাকলে রাজনৈতিক ঐক্যও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অর্থাৎ তাঁর কাছে রাজনীতি ছিল শুধু ক্ষমতা বা সংগঠনের প্রশ্ন নয়—নীতি ও আদর্শেরও প্রশ্ন।

 

অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মবিশ্বাস:

 

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দর্শনের অর্থ ধর্মহীনতা ছিল না। ব্যক্তিজীবনে তাঁর ইসলাম ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার বিভিন্ন উল্লেখ তাঁর জীবন ও লেখায় পাওয়া যায়। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে কারাগারে জামাতে নামাজ আদায় ও কোরআন পাঠের উল্লেখ রয়েছে; ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে সংরক্ষিত তাঁর ব্যবহৃত জিনিসের মধ্যেও নামাজের চৌকি, জায়নামাজ ও অজুর পাত্র রয়েছে।

 

তাঁর বক্তৃতায়ও আল্লাহর প্রতি আস্থার প্রকাশ দেখা যায়। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।” তাঁর সরকারের সময় ১৯৭৫ সালে ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা, মসজিদ ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার আইনও কার্যকর হয়।

 

অর্থাৎ তাঁর অসাম্প্রদায়িকতার মূল কথা ছিল—নিজের ধর্ম পালন ও বিশ্বাসের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদাকে স্বীকার করা।

 

জনগণের অধিকারই ছিল রাজনীতির কেন্দ্র:

 

বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়। ছয় দফা থেকে গণআন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণরায়—প্রতিটি পর্যায়ে তিনি জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভর করেছিলেন।

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়ার সংকটের মধ্যেই আসে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। ইউনেস্কো ২০১৭ সালে এই ভাষণকে Memory of the World International Register-এ অন্তর্ভুক্ত করে।

 

তাঁর রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের প্রতি আস্থা। ধর্ম, বর্ণ বা শ্রেণিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে একটি মর্যাদাপূর্ণ সমাজ এবং শোষণমুক্ত রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছিল।

 

নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষা:

 

নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা তাঁর নাম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও বড়—তাঁর রাজনৈতিক চরিত্র।

 

প্রায় বারো বছরের কারাজীবন, পরিবার থেকে দীর্ঘ বিচ্ছেদ এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়েও নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে সরে না আসা দেখায়—আদর্শের রাজনীতি কতটা ত্যাগ দাবি করতে পারে।

 

তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলার আগে নিজেদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রাখা জরুরি—দেশের স্বার্থকে কি আমরা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে পারি? অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে কি ব্যক্তিগত সুবিধা বিসর্জন দিতে পারি? ভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের অধিকারকে কি নিজের অধিকারের মতোই সম্মান করতে পারি? ক্ষমতাকে কি ভোগের বস্তু না ভেবে জনগণের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে দেখতে পারি?

 

বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে শুধু তাঁর প্রতিকৃতি কিংবা স্লোগান যথেষ্ট নয়। তুলে ধরতে হবে তাঁর দেশপ্রেম, ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে অসাম্প্রদায়িকতা, জনগণের প্রতি আস্থা, নীতির প্রতি দৃঢ়তা এবং আদর্শের জন্য ব্যক্তিগত ত্যাগের ইতিহাস।

 

কারণ একজন নেতার প্রতি সবচেয়ে অর্থবহ সম্মান তাঁর নাম উচ্চারণে নয়—তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ায়।

 

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

 

ডঃ জয়নুল আবেদীন রোজ

সভাপতি, ইউকে অনলাইন প্রেসক্লাব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেজ লাইক করুন