June 16, 2026, 5:54 pm
সংবাদ শিরোনাম
প্রবাসীর খোলা চিঠি : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সমীপে লন্ডনে এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে বিশ্বনাথ পৌর নেতা ইকবাল হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাত সিংগাইরে মানবতার হাত বাড়াল সাত্তার ফাউন্ডেশন: ১৫ পরিবার পেল ১৫ লাখ টাকা সিলেটের জৈন্তাপুরে যুবদল নেতা পরিচয়ে ‘ব্রয়লার সেলিম’ সিন্ডিকেটের দাপট ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ও মিনি স্টেডিয়াম ঘিরেও নানা অনিয়মের অভিযোগ। রংপুরের নারী পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাসে,এগিয়ে আসার আহ্বান আরপিএমপি কমিশনারের রুমায় “স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ” শীর্ষক সেমিনার ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত কোতয়ালী থানার সাফল্য, ওয়ারেন্টি তামিলে আটক ২ সিরাজগঞ্জ ‎তাড়াশে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা প্রশাসন মোকামতলায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার। সিরাজগঞ্জ তাড়াশে অগ্নিকাণ্ডে পুরে ছাই ‘সমকাল পত্রিকা’ অফিস

প্রবাসীর খোলা চিঠি : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সমীপে

তারিখ: ৩১ মে ২০২৬
প্রাপক
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
অনুলিপি: মাননীয় রাষ্ট্রপতি,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বিষয়: গণতন্ত্র, সুশাসন, প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, মাননীয় রাষ্ট্রপতি মহোদয়,
সশ্রদ্ধ সালাম গ্রহণ করবেন।

আমি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আগ্রহ ও উদ্বেগ থেকে আপনাদের উদ্দেশ্যে এই খোলা চিঠি লিখছি। আমার বিশ্বাস, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, উদ্বেগ ও মতামত তুলে ধরা একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং দায়িত্ব।
বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত, অস্থিরতা, সহিংসতা, বিভাজন এবং নানা ধরনের সংকট অতিক্রম করে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা করছে। জনগণের সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো আজ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
মাননীয় মহোদয়গণ,
আমার পর্যবেক্ষণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের আলোচনায় এসব বিষয় নিয়মিতভাবে উঠে আসছে। জনগণের প্রত্যাশা হলো—রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা।
প্রথমত, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা, জবাবদিহিতা ও আদর্শিক অবস্থান আরও সুসংহত হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। জনগণ এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে যেখানে রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে, কিন্তু তা কখনোই জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষতির কারণ হবে না।
দ্বিতীয়ত, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিদ্যমান। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদে খুন, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা যায়। জনগণ চায় রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিক এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করুক।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা জরুরি। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো ভিন্নমতকে সহ্য করা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কোনো নাগরিক যেন ভয়, অনিশ্চয়তা বা বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
চতুর্থত, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা হলো প্রশাসন হবে জনগণের সেবক, কোনো রাজনৈতিক পক্ষের নয়। একটি আধুনিক ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রশাসনিক সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চমত, বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে হতাশা ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে। তাই সকল অপরাধ, সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
ষষ্ঠত, দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত, সাশ্রয়ী এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন অপরিহার্য। দেশের মানুষ চায় এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কাউকে আর্থিক বা প্রশাসনিক দুর্ভোগে পড়তে না হয়।
সপ্তমত, তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নেওয়া প্রয়োজন। একটি শক্তিশালী অর্থনীতি ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের জন্য যুবসমাজকে যথাযথ সুযোগ প্রদান অপরিহার্য।
অষ্টমত, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্রের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
নবমত, জনগণের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জনগণ প্রত্যাশা করে যে তাদের মতামত এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রকাশিত জনআকাঙ্ক্ষা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে।
দশমত, দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্র ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, মাননীয় রাষ্ট্রপতি মহোদয়,
বাংলাদেশের জনগণ একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে। তারা চায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হোক, প্রশাসন জনগণের প্রতি আরও জবাবদিহিমূলক হোক এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাক।
আমি বিশ্বাস করি, জনগণের উদ্বেগ, আশা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে আপনারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ইতিহাসে সফল রাষ্ট্রনায়করা সেইসব নেতা, যারা জনগণের কথা শোনেন, সমালোচনাকে গ্রহণ করেন এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
পরিশেষে, আমি বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং সার্বভৌম অগ্রযাত্রার জন্য আপনাদের সর্বাত্মক সফলতা কামনা করছি। একই সঙ্গে আশা করছি, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আপনারা সাহসী, বিচক্ষণ ও ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
ধন্যবাদান্তে,
বিনীত,
নিজামুদ্দীন
সভাপতি
ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল
বর্তমান ঠিকানা:
4 Kirwyn Way
Camberwell, London SE5 0YA
United Kingdom


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেজ লাইক করুন