শেরপুর-এ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু।
স্টাফ রিপোর্টার,ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির হাসান।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়ার শেরপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সরগরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও সমীকরণ। এই প্রেক্ষাপটে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসে আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে প্রবীণ ভোটারদের মধ্যেও তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই প্রকাশ্যে কিংবা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তাকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
তৃণমূলভিত্তিক শক্ত অবস্থান
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ, কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কারণে তিনি তৃণমূলের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততা এখন প্রার্থী নির্বাচনের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড। সেই বিবেচনায় ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নন; বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহায়তা প্রদান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে একজন মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শীতকালীন সহায়তা কিংবা সংকটময় সময়ে তার সরাসরি উপস্থিতি মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করেছে বলে জানান একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।
স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও নেতৃত্বের প্রত্যাশা
স্থানীয়দের মতে, তার ব্যক্তিজীবনের সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। পারিবারিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তিনি রাজনীতিকে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখেন—এমন ধারণা জনগণের মধ্যে রয়েছে। ফলে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তার প্রতি আস্থা ক্রমেই বাড়ছে।
দলীয় নেতাদের একাংশ মনে করেন, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ততার দিক থেকে এগিয়ে থাকা প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হলে দল সাংগঠনিকভাবে লাভবান হবে। তাদের ভাষায়, “জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা নেতাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
উন্নয়ন ভাবনায় এগিয়ে
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন। উপজেলা পরিষদের সেবাকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে শেরপুরের সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করবেন—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, শক্ত জনসমর্থন, তৃণমূলের আস্থা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে শেরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু ইতোমধ্যেই একজন সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দলীয় সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক মনোনয়নের দিকেই তাকিয়ে আছে শেরপুরের রাজনৈতিক মহল।