June 10, 2026, 11:25 am
সংবাদ শিরোনাম
মোকামতলায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার। সিরাজগঞ্জ তাড়াশে অগ্নিকাণ্ডে পুরে ছাই ‘সমকাল পত্রিকা’ অফিস মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি প্রদান কোতয়ালী থানার সুইপার কলোনীতে অভিযান, গাঁজাসহ আটক মাদক কারবারি গাজীপুরে নারী গ্যারেজ মালিককে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ সাজিয়ে অপপ্রচার, থানায় অভিযোগ রংপুর কোতয়ালী থানার অভিযানে টিউবওয়েল-ফ্যান ও বৈদ্যুতিক তার সহ চোর আটক  লন্ডনের টিউব স্টেশনে নির্মম হামলা: ৪ কিশোর-কিশোরী গ্রেফতা দুহশুহ–কায়েমপুর সড়কের ভাঙা সেতু এখন মৃত্যুফাঁদ দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আমির হোসাইন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে জল্পনা তুঙ্গে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ রঙ্গ ছড়া

সুনামগঞ্জে গাইনি সার্জনের অনুমতিহীন বিদেশ ভ্রমণ, রোগী সেবায় চরম ভোগান্তি।

সুনামগঞ্জে গাইনি সার্জনের অনুমতিহীন বিদেশ ভ্রমণ, রোগী সেবায় চরম ভোগান্তি।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি_

হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের ২৭ লক্ষ মানুষের চিকিৎসায় প্রধান ভরসাস্থল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকটে ধুঁকতে থাকা এই হাসপাতালে এবার নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এক গাইনি সার্জনের বিদেশ ভ্রমণকে কেন্দ্র করে।
সরকারি অনুমতি না নিয়েই ঈদের ছুটিতে মালয়েশিয়া সফরে গেছেন হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. লিপিকা দাস। তার এই বিদেশযাত্রা হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, গত ১৬ মার্চ ঈদের ছুটি কাটাতে স্বামীর সঙ্গে মালয়েশিয়ায় যান তিনি। সেখানে প্রায় ছয় দিন অবস্থান শেষে ২১ মার্চ দেশে ফেরেন। তবে এই সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারি চাকরি বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি চিকিৎসক দেশের বাইরে যেতে চাইলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে কর্মরতদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ নিয়মবহির্ভূত হিসেবে গণ্য হয়।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ গাইনি বিভাগে তার অনুপস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঈদের দ্বিতীয় দিন তার ওয়ার্ডে রাউন্ড দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এতে সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
নারায়নতলা এলাকা থেকে আসা রহিমা খাতুন জানান, তার ছেলের বউকে নিয়ে হাসপাতালে এসে ডাক্তার পাননি। অভাবের সংসারে প্রাইভেট ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এর আগেও নিয়মিত অফিসে না আসা, নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ এবং সরকারি ডিউটির সময় প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ডা. লিপিকা দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের ভেতরকার সূত্রগুলো জানায়, একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে অনিয়ম করেও অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সুমন বনিক জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন ওই চিকিৎসকের ডিউটি থাকলেও তিনি কেন ছিলেন না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, তিনি বিদেশে গেছেন কি না সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক। আমার অনুমতি থাকলেও তিনি দেশের বাইরে যেতে পারেন না।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিক জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদেশযাত্রা বা স্টেশন লিভের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা নিয়মের লঙ্ঘন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেজ লাইক করুন