April 14, 2026, 2:39 am
সংবাদ শিরোনাম
বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আশীষ কুমার চক্রবর্তী শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নম্বর ওয়ার্ডে ফারুক হোসেন খানের ব্যাপক গণসংযোগ। ঠাকুরগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। মধ্যনগরে বাঁধের মাটি চাপায় যুবকের এক মৃত্যু। মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী সৈয়দ এনামুল হক। কাপড় শুকানোর মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৎ ভাইয়ের ওপর হামলা সালমা নজিরকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায় হাওরাঞ্চলের জনগন তাহিরপুরে বিকাশ লেনদেনের বিরোধে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৩ Alhamdulillah

সুনামগঞ্জে গাইনি সার্জনের অনুমতিহীন বিদেশ ভ্রমণ, রোগী সেবায় চরম ভোগান্তি।

সুনামগঞ্জে গাইনি সার্জনের অনুমতিহীন বিদেশ ভ্রমণ, রোগী সেবায় চরম ভোগান্তি।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি_

হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের ২৭ লক্ষ মানুষের চিকিৎসায় প্রধান ভরসাস্থল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকটে ধুঁকতে থাকা এই হাসপাতালে এবার নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এক গাইনি সার্জনের বিদেশ ভ্রমণকে কেন্দ্র করে।
সরকারি অনুমতি না নিয়েই ঈদের ছুটিতে মালয়েশিয়া সফরে গেছেন হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. লিপিকা দাস। তার এই বিদেশযাত্রা হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, গত ১৬ মার্চ ঈদের ছুটি কাটাতে স্বামীর সঙ্গে মালয়েশিয়ায় যান তিনি। সেখানে প্রায় ছয় দিন অবস্থান শেষে ২১ মার্চ দেশে ফেরেন। তবে এই সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারি চাকরি বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি চিকিৎসক দেশের বাইরে যেতে চাইলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে কর্মরতদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ নিয়মবহির্ভূত হিসেবে গণ্য হয়।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ গাইনি বিভাগে তার অনুপস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঈদের দ্বিতীয় দিন তার ওয়ার্ডে রাউন্ড দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এতে সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
নারায়নতলা এলাকা থেকে আসা রহিমা খাতুন জানান, তার ছেলের বউকে নিয়ে হাসপাতালে এসে ডাক্তার পাননি। অভাবের সংসারে প্রাইভেট ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এর আগেও নিয়মিত অফিসে না আসা, নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ এবং সরকারি ডিউটির সময় প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ডা. লিপিকা দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের ভেতরকার সূত্রগুলো জানায়, একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে অনিয়ম করেও অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সুমন বনিক জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন ওই চিকিৎসকের ডিউটি থাকলেও তিনি কেন ছিলেন না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, তিনি বিদেশে গেছেন কি না সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক। আমার অনুমতি থাকলেও তিনি দেশের বাইরে যেতে পারেন না।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিক জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদেশযাত্রা বা স্টেশন লিভের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা নিয়মের লঙ্ঘন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেজ লাইক করুন