তাহিরপুরে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার চানপুর গ্রামে নিহত মোঃ আলমগীর হোসেনের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মর্জিনা আক্তার বলেন, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ রাতের কোনো এক সময় তার স্বামী মোঃ আলমগীর হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঘরের কাঠের ধরনার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের অপচেষ্টা চালানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আলমগীর হোসেন সমাজের বিভিন্ন অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বিশেষ করে এলাকায় চলমান মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এসব হুমকির বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অবগত ছিলেন।
ঘটনার রাতে কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিহতের বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বরাতে দাবি করা হয়। এসব তথ্য বর্তমানে আদালতে দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরদিন ১ নভেম্বর ২০২৫ সকালে প্রতিবেশী এক শিশুর চিৎকারে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মর্জিনা আক্তার আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করতে চাইলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। এতে তিনি চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। পরবর্তীতে উপায়ান্তর না পেয়ে প্রায় এক মাস ২০ দিন পর আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করেন।
বর্তমানে মামলাটি সি আর মামলা নং–৩১৫/২০২৫ (তাহিরপুর) হিসেবে বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী বলেন, “আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না। আমি চাই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদনের মাধ্যমে যেন একজন নিরপরাধ মানুষের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।