January 10, 2026, 10:51 pm
সংবাদ শিরোনাম
ভুরুঙ্গামারী মহিলা দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করলেন বোর্ড পরিদর্শক প্রফেসর আব্দুল মান্নান ভুরুঙ্গামারীতে এসডিএফ’র পোশাক উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মদিনে সিরাজুল আলম খানের রাজনীতি ও রাষ্ট্রভাবনা’ নিয়ে আলোচনা সিরাজুল আলম খানের তত্ত্বেই আছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: আবু সাঈদ খান গরিবের বন্ধু — মোঃ সামছুল হক* রিপোর্টার জেলা পতিনিধি : মো: রুমন আলী নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি শাহ জালাল আহমেদ শাওন দুবাই যাওয়ার পথে গ্রেফতার। সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গৃহ-বধূ সুমি দাশ চৌধুরীর আত্ম-হত্যা এখন হত্যা মামলায় পরিণত ফেঁসে গেলেন শশুর শাশুরী ও পেনসিলভেনিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের শপথ। জমকালো আয়োজনে ঢাকায় ‘ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠিত। আগে গুলি করবো, পরে প্রশ্ন’, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের। জাফর ইকবালের হাসি, গান, অভিনয় সব কিছুই আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে: ববিতা।

জাফর ইকবালের হাসি, গান, অভিনয় সব কিছুই আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে: ববিতা।

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ

চিত্রনায়ক জাফর ইকবালকে স্মরণ করতে গেলে আমার সামনে আগে ভেসে ওঠে একজন অসাধারণ মানুষ। নায়ক হিসেবে তিনি যেমন দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন, সহশিল্পী হিসেবেও ছিলেন ভীষণ মানবিক। আমাদের জুটি দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছিল, সেটা আজও মানুষ মনে রেখেছে। একসঙ্গে প্রায় চল্লিশটির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছি দুজন। প্রতিটি কাজের অভিজ্ঞতাই আলাদা, প্রতিটি স্মৃতিই মূল্যবান। জাফর ইকবালের মধ্যে একটা সহজাত সৌন্দর্য ছিল, যা পর্দা ছাড়িয়েও মানুষকে আপন করে নিত।

তিনি হ্যান্ডসাম ছিলেন, গিটার হাতে গান গাইতে পারতেন অসাধারণভাবে। শুটিংয়ের ফাঁকে কখনও ইংরেজি গান, কখনও বাংলা সুরে সেট মাতিয়ে রাখতেন। শরীরটা তখন ভালো থাকত না, নানা অসুখে ভোগতেন, কিন্তু সেটে কখনও তা প্রকাশ করতেন না। হাসিমুখে কাজ করে যেতেন, যেন কিছুই হয়নি। এই জায়গাটায় তিনি সত্যিই ব্যতিক্রমী ছিলেন। আমাদের অভিনীত ‘অবুঝ হৃদয়’ ছিল সুপার হিট একটি সিনেমা। ব্যাংককে শুটিং হয়েছিল, আমাদের সঙ্গে চম্পা ছিল। ত্রিভুজ প্রেমের গল্প, আর শুটিংয়ের ফাঁকে ছিল অজস্র হাসি-ঠাট্টা। সিনেমাটি টেলিভিশনে প্রচার হলে আজও দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখে।

জাফর ইকবালের অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন, চোখের ভাষা– সবকিছু মিলিয়ে আজও মানুষের মনে গেঁথে আছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম ছবি ‘মামা ভাগ্নে’। এরপর ‘হারজিৎ’ দিয়ে আমি দর্শকদের ভালোবাসা পাই। আমাদের জুটির প্রথম দিককার এই ছবিগুলোর গান ছিল অসাধারণ, যা আজও মানুষ গুনগুন করে। জাফর ইকবালকে এখনও সবাই চিরসবুজ নায়ক বলেই ডাকে, এটা তাঁর স্বীকৃতি। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অতিভদ্র, মার্জিত এবং সহানুভূতিশীল।

কারও নামে বদনাম করা কিংবা কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে আমি তাঁকে কখনও দেখিনি। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই দিনে তাঁকে আরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর হাসি, গান, অভিনয় আর মানবিকতা আজও আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে। দর্শকের ভালোবাসা তাঁকে যে উচ্চতায় নিয়েছিল, তা খুব কম শিল্পীর ভাগ্যে জোটে। ব্যক্তিগত জীবনে সংযমী এই মানুষটি আলোড়ন পছন্দ করতেন না। কাজই ছিল তাঁর পরিচয়।

পর্দায় রোমান্টিক নায়ক, বাস্তবে দায়িত্বশীল সহকর্মী– এই দ্বৈততার সৌন্দর্য আজও আমাকে মুগ্ধ করে। সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি অমলিন থাকে। তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই সেই স্মৃতিগুলো নতুন করে জেগে ওঠে। তাই তাঁর চলে যাওয়ার দিনটিতে শুধু শোক নয়, কৃতজ্ঞতাও জানাই। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন ভদ্রতা, পেশাদারিত্ব আর শিল্পের প্রতি সততা।

এই শিক্ষা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে, আলো জ্বালিয়ে রাখবে, নিঃশব্দে। এই স্মরণ লেখার মধ্য দিয়ে আমি আবারও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, ভালোবাসা জানাই এবং প্রার্থনা করি তিনি যেন মানুষের হৃদয়ে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকেন। কারণ তিনি আমাদের সিনেমার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই আজও।
অনুলিখন: এমদাদুল হক মিলটন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেজ লাইক করুন
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com