নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রায়পুরা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দিক। এসময় নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদ রানাসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৭ জানুয়ারি সকালে শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের নওয়াব পাড়া এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে গ্রেপ্তাররা হলেন- শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার ইকবাল ওরফে আকবর (৩৫) ও তোতা মিয়ার ছেলে মো. জালাল উদ্দিন (৫৫)।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে- ২টি এক নলা বন্দুক, ১ দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ১টি রামদা, ২টি ডেগার ৪টি ছুরি, ২টি চাপাতি, ৮টি কার্তুজ, ৭.৬২ মিমি চায়না রাইফেলের গুলি (৫০ রাউন্ড), ৩টি দেশীয় বোমা, ১১টি পটকা, ১টি ব্লেডযুক্ত ছ্যাকু, ১টি ছোট ব্যাগ, ২টি বন্দুকের কভার, ১৫টি বাটন মোবাইল, ৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট, ১টি ক্যাপলেস ম্যানিব্যাগ, ১টি এনআইডি কার্ড।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের নওয়াব পাড়া এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কিছু সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র-সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান।
উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর রায়পুরার চরাঞ্চল নিলক্ষার দড়িগাঁও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রবাসী এক যুবক নিহত হন। এসময় গুলিবিদ্ধ হন আরও দুজন। পরে ১০ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, রায়পুরার চরাঞ্চলে সংঘাত বন্ধে কম্বিং অপারেশন করা হবে।