“চুমুর জন্য মাথা কাঁটা -? ধিক্কার সৌদির রাজতন্ত্র -!
প্রেমের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, ধর্মীয় নৈতিকতা, বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে সৌদি বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন

ফিল্ডমার্শাল সাংবাদিক কবি এস.পি. সেবু’র বিবৃতি :
ভূমিকা: একটি চুমু, দুটি জীবন এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
চুমুর জন্য নাকি মাথাকাটা !

চুমু খাচ্ছে দুজন, তৃতীয়জন হাসি-তামাশা করলে পুলিশ নিয়ে এসে জরিমানা করা হয় রাশিয়ার মস্কোতে—এমন দাবি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে প্রেম-ভালোবাসার স্বাধীনতা ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কাবাঘরে হাজরে আসওয়াদে চুমু দিতে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হন মক্কা নগরীতে। অন্যদিকে, আরবের রাজা-বাদশাহ ও আমিরদের কাঁধে চুমু দিয়ে অভিবাদন জানানোও কোনো কোনো রাজকীয় ও সামাজিক রীতির অংশ।
তাহলে প্রশ্ন হলো, একটি চুমু কোথাও ধর্মীয় শ্রদ্ধার প্রতীক, কোথাও সামাজিক অভিবাদন, কোথাও প্রেমের প্রকাশ, আবার কোথাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কেন?
একটি চুমুর আইনগত ও নৈতিক মূল্যায়ন কি কেবল ক্ষমতাবানদের ইচ্ছায় নির্ধারিত হবে, নাকি সম্মতি, মানবিক মর্যাদা, প্রমাণ এবং ন্যায়বিচারের নীতিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত?
সৌদি আরবে গৃহকর্মী ও অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর যৌন হয়রানি, নির্যাতন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে—তিনি রাজপরিবারের সদস্য হোন, প্রভাবশালী নাগরিক হোন কিংবা সাধারণ শ্রমিক হোন।
শুনে রেখো, সৌদি শাসকগোষ্ঠী, সৌদি আরবের বাদশাহ ও যুবরাজ!
তোমাদের দেশে কথিত অনৈতিক আচরণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা যদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, অভিযোগের প্রকৃতি, বিচারপ্রক্রিয়া এবং দণ্ডের আইনগত ভিত্তি জনসমক্ষে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
কোন অপরাধে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল? তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল? অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল? তাঁরা কি আইনজীবীর সহায়তা পেয়েছিলেন? আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিলেন? রায়টি কোন আইনি বিধানের অধীনে দেওয়া হয়েছিল? আপিলের সুযোগ ছিল কি? বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে যথাসময়ে অবহিত করা হয়েছিল কি?
এসব প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত সতর্কতা রয়েছে: দুই বাংলাদেশিকে শুধু চুমু খাওয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নথি ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। অভিযোগের প্রকৃতি যা-ই হোক, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার এবং শাস্তির ন্যায়সংগততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার মানুষের রয়েছে।
এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য কোনো ধর্ম, জাতি বা দেশের সাধারণ মানুষকে অপমান করা নয়। এর উদ্দেশ্য হলো মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আইনের সমান প্রয়োগের পক্ষে প্রতিবাদী অবস্থান তুলে ধরা।
১. প্রেম, চুমু ও ব্যক্তিস্বাধীনতা: অপরাধের সংজ্ঞা কোথায়?
চুমু মানুষের আবেগ, স্নেহ, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন কিংবা প্রেমের প্রকাশ হতে পারে।
বাবা-মায়ের সন্তানের কপালে চুমু, বন্ধুর গালে স্নেহের চুমু, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক স্নেহ কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক দুজন মানুষের সম্মতিপূর্ণ চুমু—এসবের সামাজিক ও ব্যক্তিগত অর্থ এক নয়।
একটি চুমুকে অপরাধ হিসেবে মূল্যায়ন করার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন:
১. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রাপ্তবয়স্ক কি না।
২. চুমুটি উভয়ের স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতিতে হয়েছে কি না।
৩. কোনো ব্যক্তি জবরদস্তি, ভয়ভীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না।
৪. ঘটনাটি এমন কোনো স্থানে ঘটেছে কি না, যেখানে বৈধভাবে প্রযোজ্য বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে।
৫. অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি না।
৬. প্রস্তাবিত শাস্তি অপরাধের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
সম্মতিপূর্ণ স্নেহের প্রকাশ এবং জোরপূর্বক চুমু এক বিষয় নয়।
সম্মতিপূর্ণ চুমু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অংশ হতে পারে। অন্যদিকে, কারও সম্মতি ছাড়া তাঁকে জোর করে চুমু খাওয়া পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী যৌন হয়রানি, আক্রমণ বা অন্য অপরাধের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
কেউ হাসি-তামাশা করলেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি কাউকে জোর করে চুমু খাওয়াকেও নিছক ভালোবাসা বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না।
মানবাধিকার রক্ষার অর্থ অপরাধকে বৈধতা দেওয়া নয়; বরং অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
২. সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে সৌদি আরবে মক্কার একটি মসজিদে কথিত ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা জানানো হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমে তাঁদের নাম নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রতিটি বিবরণ, অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিচারিক নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ স্পষ্ট না থাকলে সেই অস্পষ্টতা দূর করা জরুরি। মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রকৃতি, প্রমাণ এবং আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জনসাধারণের প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক নয়।
বাংলাদেশি কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কনস্যুলার সহায়তা পেয়েছিলেন কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি:
অভিযোগ ও মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করতে হবে।
দণ্ডের সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে হবে।
অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
সাক্ষ্যপ্রমাণ কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তা জানাতে হবে।
বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম থাকলে তার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা করতে হবে।
একটি দেশের বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করা মানেই সেই দেশের জনগণ বা ধর্মকে অপমান করা নয়। বরং ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও মানবিক মর্যাদার দাবি তোলা একটি বৈধ জনস্বার্থমূলক অবস্থান।
৩. সৌদি আরবের নিজস্ব আইন কী বলে?
সৌদি আরবের Basic Law of Governance বা শাসনব্যবস্থার মৌলিক আইনের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে আইনসম্মত ভিত্তি ছাড়া কাউকে আটক বা কারাবন্দি করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শাস্তি ব্যক্তিগত এবং শরিয়াহ বা আইনগত বিধান ছাড়া কোনো অপরাধ বা শাস্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
এই বিধানগুলো সৌদি আরবের নিজস্ব আইনব্যবস্থায় আইনগত ভিত্তি ও শাস্তি নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
আইনি উৎস: সৌদি আরবের Basic Law of Governance
এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোন বিধান প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং সেই বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের আইনগত ভিত্তি কী ছিল।
শুধু ‘অনৈতিক কাজ’ বা ‘তাজির’ শব্দ উচ্চারণ করলেই বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। অভিযোগ, প্রমাণ, আইনি ব্যাখ্যা এবং দণ্ডের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করতে হলে সেই দেশের আইন ও বাস্তব বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে করতে হবে।
একই সঙ্গে, কোনো দেশে প্রচলিত আইন থাকলেই সেই আইনের অধীনে আরোপিত প্রতিটি শাস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যায়সংগত হয়ে যায় না।
৪. বাংলাদেশের দণ্ডবিধি: সম্মতি, আক্রমণ ও যৌন অপরাধের পার্থক্য
বাংলাদেশের Penal Code, 1860 বা দণ্ডবিধিতে অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিধান রয়েছে।
ধারা ৩৫১ ও ৩৫২: আক্রমণ এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের শাস্তি সম্পর্কিত বিধান।
ধারা ৩৫৪: কোনো নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বা তেমন ফল ঘটতে পারে জেনেও আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রাসঙ্গিক বিধান।
ধারা ৩৭৫ ও ৩৭৬: ধর্ষণের সংজ্ঞা এবং শাস্তি সম্পর্কিত বিধান।
তবে এসব ধারার কোনটি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতি, প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়স, সম্মতি এবং বাংলাদেশের আইনের প্রযোজ্যতার ওপর। শুধু চুমু খাওয়ার ঘটনা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয় না।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি: Penal Code, 1860—বাংলাদেশের আইনভান্ডার
বাংলাদেশের আইনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আদালতের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করতে হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি নির্ধারণ করা ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি: বাংলাদেশের দণ্ডবিধি সৌদি আরবে সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। বিদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রযোজ্য কনস্যুলার বিধানও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
৫. ভারতের IPC এবং বর্তমান আইনি বাস্তবতা
ভারতের ঐতিহাসিক Indian Penal Code, 1860 বা IPC-তে আক্রমণ, নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং যৌন অপরাধ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিধান ছিল।
তবে ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ভারতে Bharatiya Nyaya Sanhita, 2023 কার্যকর হয়েছে। এই আইন অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরোনো IPC-কে প্রতিস্থাপন করেছে।
সুতরাং, ভারতে সংঘটিত কোনো ঘটনার বর্তমান আইনগত বিশ্লেষণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট নতুন আইন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো আইনের অন্তর্বর্তী প্রযোজ্যতা পরীক্ষা করতে হবে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতীয় IPC, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি এবং সৌদি আরবের আইন তিনটি পৃথক আইনব্যবস্থার অংশ। এক দেশের শাস্তির বিধান অন্য দেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।
আইনের শাসনের প্রকৃত অর্থ হলো, প্রতিটি অভিযোগ প্রযোজ্য আইন, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ এবং ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা।
৬. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কী বলে?
প্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায়সংগততা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কয়েকটি আন্তর্জাতিক দলিল বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
ক. সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা—UDHR
জাতিসংঘের Universal Declaration of Human Rights (UDHR) বা সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ হলো:
অনুচ্ছেদ ১: সব মানুষ স্বাধীনভাবে এবং সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
অনুচ্ছেদ ৩: প্রত্যেক মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৫: কাউকে নির্যাতন কিংবা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর শাস্তি দেওয়া যাবে না।
অনুচ্ছেদ ৭: আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।
অনুচ্ছেদ ১০: প্রত্যেকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে ন্যায়সংগত শুনানি পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ১২: ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, বাসস্থান ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে যথেচ্ছ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সুরক্ষার নীতি স্বীকৃত।
অনুচ্ছেদ ১৬: প্রাপ্তবয়স্কদের বিবাহ ও পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে স্বাধীন সম্মতির গুরুত্ব স্বীকৃত।
অনুচ্ছেদ ১৯: মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নীতি স্বীকৃত।
এই ঘোষণাটি নিজে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি নয়; তবে এটি আধুনিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক মানদণ্ড।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অবাধ অধিকার নয়। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলেই তাঁর ন্যায়সংগত বিচার পাওয়ার অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায় না।
খ. নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি—ICCPR
International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR)-এর কয়েকটি প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদ হলো:
অনুচ্ছেদ ৬: জীবনের অধিকার এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড আরোপের কঠোর সীমাবদ্ধতা।
অনুচ্ছেদ ৭: নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তির নিষেধাজ্ঞা।
অনুচ্ছেদ ১৪: ন্যায়সংগত বিচার, নিরপেক্ষ আদালত এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার।
অনুচ্ছেদ ১৭: ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, বাসস্থান ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেআইনি বা যথেচ্ছ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা।
অনুচ্ছেদ ১৯: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।
ICCPR-এর ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত আরোপ করে। যেসব রাষ্ট্র এই চুক্তির পক্ষভুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ না করা পর্যন্ত তা কেবল সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্য এবং চুক্তির অন্যান্য শর্ত মেনে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় হলো, সৌদি আরব ICCPR-এর পক্ষভুক্ত রাষ্ট্র নয়। ফলে চুক্তিটির বিধান সৌদি আরবের ওপর সরাসরি চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা হিসেবে প্রয়োগ করা যায় না।
তারপরও জীবনের অধিকার, নির্যাতনবিরোধী নীতি এবং ন্যায়সংগত বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
গ. নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন—CAT
জাতিসংঘের Convention Against Torture (CAT) নির্যাতন প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি। সৌদি আরব এই কনভেনশনের পক্ষভুক্ত রাষ্ট্র।
অভিযোগের তদন্ত, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির সুরক্ষা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই কনভেনশনের বিধান প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলায় কনভেনশনের লঙ্ঘন ঘটেছে কি না, তা প্রমাণ, বিচারিক নথি এবং প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।
ঘ. আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক প্রশ্ন
যদি কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের প্রকৃতি, সাক্ষ্যপ্রমাণ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং দণ্ডের যৌক্তিকতা যথাযথভাবে যাচাই না করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা গুরুতর মানবাধিকার-সংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও বিচারিক সিদ্ধান্ত না দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনের কোন বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে।
ন্যায়বিচারের দাবি শক্তিশালী করতে হলে অভিযোগের পাশাপাশি প্রমাণ, আইন ও বিচারপ্রক্রিয়ার তথ্যও তুলে ধরতে হবে।
৭. ধর্ম কী শেখায়: ন্যায়বিচার, দয়া ও মানবিক মর্যাদা
ধর্মীয় নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কোনো ধর্মকে এককভাবে দায়ী করা কিংবা কোনো ধর্মের সব অনুসারীকে একই দৃষ্টিতে দেখা যুক্তিসংগত নয়।
ইসলামের ক্ষেত্রেও কোরআনের ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও জীবনের গুরুত্ব সম্পর্কিত বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইসলাম
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইসরা, ১৭:৭০-এ আদমসন্তানের মর্যাদার কথা বলা হয়েছে।
সূরা আন-নিসা, ৪:১৩৫-এ ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর নির্দেশ রয়েছে।
সূরা আল-মায়িদা, ৫:৮-এ কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিরাগ যেন ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
সূরা আল-ইসরা, ১৭:৩৩-এ ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া মানুষের প্রাণহত্যা না করার নির্দেশ রয়েছে।
এসব আয়াত থেকে একটি মৌলিক নৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায়: বিচার করতে হলে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও জীবনের গুরুত্বকে উপেক্ষা করা যায় না।
তবে এসব আয়াতের ব্যাখ্যা, ইসলামী ফৌজদারি আইন এবং তাজিরের প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন আলেম ও আইনবিশেষজ্ঞের মধ্যে ব্যাখ্যাগত পার্থক্য রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট মামলার শরিয়াহসম্মততা নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, প্রমাণ, আইনগত ভিত্তি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া পরীক্ষা করতে হবে।
খ্রিষ্টধর্ম
খ্রিষ্টীয় নৈতিকতায় প্রতিবেশীকে ভালোবাসা, ক্ষমা, দয়া এবং অন্যের প্রতি ন্যায়সংগত আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হিন্দুধর্ম
হিন্দু ধর্মীয় ও দার্শনিক ঐতিহ্যে অহিংসা, সত্য, আত্মসংযম এবং জীবের প্রতি সহমর্মিতার মতো নৈতিক আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
বৌদ্ধধর্ম
বৌদ্ধ নৈতিকতায় করুণা, মৈত্রী এবং অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ধর্মীয় ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে মতবাদগত পার্থক্য থাকলেও ন্যায়বিচার, আত্মসংযম, দয়া এবং মানবিক আচরণের মতো মূল্যবোধ বহু ঐতিহ্যেই গুরুত্ব পেয়েছে।
তাই ধর্মের নামে বিচার করতে হলে প্রশ্ন করতে হবে: বিচারটি কি ন্যায়সংগত, প্রমাণনির্ভর ও মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল?
ধর্মের নাম উচ্চারণ করলেই কোনো বিচার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যায়বিচারে পরিণত হয় না। একইভাবে, কোনো বিচারকের ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে আক্রমণ না করে তাঁর রায়ের আইনগত ভিত্তি ও যুক্তি সমালোচনা করা যায়।
৮. বিজ্ঞান কী বলে: চুমু, আবেগ ও মানুষের স্বাভাবিক আচরণ
বিজ্ঞান মানুষের আচরণকে জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং সামাজিক পরিবেশের আলোকে বিশ্লেষণ করে।
চুমু মানুষের মধ্যে স্নেহ, ঘনিষ্ঠতা ও আবেগ প্রকাশের একটি আচরণ। তবে সব সংস্কৃতিতে চুমুর অর্থ এক নয়। কোথাও এটি প্রেমের প্রকাশ, কোথাও পারিবারিক স্নেহের চিহ্ন, আবার কোথাও প্রকাশ্যে চুমু খাওয়াকে সামাজিকভাবে অনুচিত বলে মনে করা হয়।
শারীরিক স্পর্শ ও ঘনিষ্ঠতা মানুষের আবেগ, সামাজিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত। পারস্পরিক স্নেহ ও ঘনিষ্ঠতা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মানসিক স্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
কিন্তু বিজ্ঞান থেকে এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না যে সব ধরনের চুমুই বৈধ, সব প্রকাশ্য আচরণই গ্রহণযোগ্য, অথবা কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়াই তাঁকে চুমু খাওয়া যায়।
এখানে বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো মানুষের আচরণ সম্পর্কে তথ্যনির্ভর ধারণা তৈরি করা এবং সম্মতি, জবরদস্তি ও ব্যক্তিগত সীমারেখার পার্থক্য বোঝানো।
সম্মতিপূর্ণ ঘনিষ্ঠতা এবং অনিচ্ছাকৃত যৌন স্পর্শের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
কোন আচরণ আইনত অপরাধ, তার সিদ্ধান্ত বিজ্ঞান একা দিতে পারে না। সেটি নির্ধারিত হয় প্রযোজ্য আইন, মানবাধিকার, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং ন্যায়বিচারের নীতির ভিত্তিতে।
৯. গৃহকর্মী ও অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা: দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ
সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশ এবং গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
গৃহকর্মীরা অনেক সময় নিয়োগকর্তার বাসায় কাজ করেন এবং তাঁদের কর্মস্থল ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যে অবস্থিত। ফলে নির্যাতন, জবরদস্তি, যৌন হয়রানি কিংবা বেতন আটকে রাখার মতো অভিযোগ তদন্ত করা কখনো কখনো কঠিন হতে পারে।
কোনো গৃহকর্মীকে জোর করে চুমু খাওয়া, যৌন স্পর্শ করা, ভয় দেখানো কিংবা ধর্ষণ করা হলে তা কোনোভাবেই প্রেমের প্রকাশ নয়। অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী তা যৌন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন কিংবা গুরুতর যৌন অপরাধ হতে পারে।
সৌদি আরবের ২০১৮ সালের যৌন হয়রানি প্রতিরোধবিষয়ক আইনে যৌন অর্থবাহী কথা, কাজ বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে অন্যের শরীর, সম্মান বা শালীনতা লঙ্ঘনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনটিতে সাধারণভাবে যৌন হয়রানির জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে এবং কিছু পরিস্থিতিতে অধিকতর শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
সরকারি আইনি উৎস: সৌদি আরবের Anti-Harassment Law
অতএব, কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তাঁর পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যেন তদন্তের পথে বাধা না হয়। একইভাবে, কোনো শ্রমিক বা বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তাঁর ন্যায়সংগত বিচার পাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
আইনের প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
১০. মৃত্যুদণ্ড কি সব অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি?
একটি রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা।
কোনো অপরাধে জরিমানা, কারাদণ্ড, ক্ষতিপূরণ কিংবা অন্য কোনো শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারিত হতে পারে অপরাধের গুরুত্ব, প্রমাণ, আইন এবং পরিস্থিতির ভিত্তিতে।
মৃত্যুদণ্ড সবচেয়ে চূড়ান্ত শাস্তি, কারণ তা কার্যকর হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ভুল রায়, অসম্পূর্ণ প্রমাণ কিংবা বিচারিক অনিয়মের কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ আর থাকে না।
তাই মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নে বিশেষ সতর্কতা, প্রমাণের কঠোর যাচাই এবং ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রবন্ধের বক্তব্য হলো, কথিত অনৈতিক আচরণের অভিযোগ থাকলেই তার প্রকৃতি, প্রমাণ ও আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা না করে মৃত্যুদণ্ডকে ন্যায়সংগত বলে ধরে নেওয়া যায় না।
যদি কোনো মামলায় শাস্তি অপরাধের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, অথবা বিচারপ্রক্রিয়ায় মৌলিক ত্রুটি থাকে, তাহলে সেই রায়ের পুনর্বিবেচনা ও জবাবদিহির দাবি তোলা উচিত।
তবে বিচারক বা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক মৃত্যুদণ্ড দাবি করাও ন্যায়বিচারের সমাধান নয়। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য, জাল প্রমাণ বা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারকের অসদাচরণ প্রমাণিত হলে স্বাধীন ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আরেকটি অন্যায় সৃষ্টি করা যায় না।
১১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জনমত ও দায়িত্বশীল প্রতিবাদ
আজকের পৃথিবীতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ রাষ্ট্রীয় নীতি, বিচারব্যবস্থা এবং মানবাধিকার নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন।
কোনো বিচার নিয়ে জনমত তৈরি হওয়া গণসচেতনতার একটি অংশ হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি দাবি সত্য নয়।
বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি বা বিচারিক অনিয়মের মতো গুরুতর বিষয়ে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
প্রতিবাদ করতে হলে কয়েকটি নীতি অনুসরণ করা উচিত:
১. নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতি থেকে তথ্য যাচাই করা।
২. অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা।
৩. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, পরিচয় ও অপরাধ সম্পর্কে অপ্রমাণিত দাবি এড়িয়ে চলা।
৪. রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা, কিন্তু কোনো জাতি বা ধর্মের সব মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করা।
৫. ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি তোলা।
৬. প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বা বেআইনি শাস্তির পরিবর্তে আইনসম্মত প্রতিকার চাওয়া।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দায়িত্বহীনতার অনুমতি নয়; বরং তথ্য, যুক্তি এবং নৈতিক সাহসের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সুযোগ।
১২. বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও মানবিক অনুভূতির জায়গা থেকে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিম্নলিখিত দাবিগুলো তোলা যেতে পারে।
প্রথম দাবি: দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং প্রযোজ্য আইনি বিধান প্রকাশ করতে হবে।
দ্বিতীয় দাবি: বিচারপ্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনজীবীর সহায়তা, সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই এবং আপিলের সুযোগ যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়েছিল কি না, তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
তৃতীয় দাবি: বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে আগে অবহিত না করার অভিযোগ থাকলে তার কারণ জানাতে হবে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ডসংক্রান্ত ঘটনায় কনস্যুলার যোগাযোগের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থ দাবি: যৌন হয়রানি, জবরদস্তি ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় বা ক্ষমতার অবস্থান নির্বিশেষে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
পঞ্চম দাবি: কোনো বিচারিক অনিয়ম, বেআইনি প্রমাণ সংগ্রহ, নির্যাতন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
ষষ্ঠ দাবি: বিদেশি শ্রমিক, গৃহকর্মী এবং অন্যান্য অভিবাসীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সপ্তম দাবি: মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড, ন্যায়সংগত বিচার এবং ভুল রায়ের ঝুঁকি নিয়ে স্বচ্ছ পর্যালোচনা করতে হবে।
এসব দাবি কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্যায় হস্তক্ষেপের আহ্বান নয়; বরং বিদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের ঘটনা সম্পর্কে তথ্য, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচারের দাবি।
১৩. আমেরিকার নাগরিক হলে কি বিচার ভিন্ন হতো?
আমার প্রশ্ন হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি বাংলাদেশের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের নাগরিক হতেন, তাহলে কূটনৈতিক যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং জনমতের চেহারা কি একই রকম থাকত?
এ প্রশ্নের উত্তর অনুমান করে দেওয়া যায় না। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় শক্তিশালী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল রাষ্ট্রের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।
কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকের অধিকার তাঁর পাসপোর্টের রং, অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তাঁর বিচার সেই দেশের প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী হতে পারে। কিন্তু তাঁকে ন্যায়সংগত বিচার, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রযোজ্য কনস্যুলার সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ করা এবং কোনো গুরুতর অভিযোগ উঠলে তার যথাযথ ব্যাখ্যা চাওয়া।
ন্যায়বিচার কোনো নির্দিষ্ট দেশের একচেটিয়া সম্পদ নয়। এটি প্রত্যেক মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক একটি মৌলিক মূল্যবোধ।
১৪. বিচারক, অভিযোগকারী ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি
কোনো বিচারকের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং কোনো বিচারককে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করা এক বিষয় নয়।
যদি কোনো বিচারক আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্ত দেন, প্রমাণ উপেক্ষা করেন অথবা বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিচারিক শৃঙ্খলাব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁর জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একইভাবে, কোনো অভিযোগকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেন, জাল প্রমাণ তৈরি করেন কিংবা নির্দোষ কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন বলে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
কিন্তু কোনো অভিযোগকারী বা বিচারককে প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই প্রবন্ধের অবস্থান স্পষ্ট: আইনের অপব্যবহার হলে তার প্রতিকারও আইনের মাধ্যমেই হতে হবে।
অন্যায় শাস্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেকটি অন্যায়কে সমর্থন করা যাবে না।
১৫. শেষ কথা: চুমু নয়, ন্যায়বিচারই হোক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
চুমু মানুষের জীবনে কখনো প্রেম, কখনো স্নেহ, কখনো সামাজিক অভিবাদনের প্রতীক। কিন্তু জবরদস্তিমূলক চুমু, যৌন হয়রানি বা ধর্ষণকে সেই একই অর্থে বিচার করা যায় না।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে প্রথমে জানতে হবে তিনি কী করেছেন, অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে এবং কোন আইন প্রযোজ্য। তারপর ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধ ও শাস্তি নির্ধারণ করতে হবে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সংবাদ যদি প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই ঘটনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যথাযথ কূটনৈতিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি বিচারপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঘটে থাকে, তার তদন্ত করতে হবে। যদি প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন না হয়ে থাকে, তা পর্যালোচনা করতে হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি বা জবরদস্তির অভিযোগ থাকে, তবে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
আমরা এমন কোনো বিচারব্যবস্থা চাই না, যেখানে ক্ষমতাবানদের জন্য এক আইন এবং সাধারণ মানুষের জন্য আরেক আইন কার্যকর হয়।
আমরা এমন কোনো সমাজও চাই না, যেখানে ধর্মের নামে অন্যায়কে প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়, অথবা ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে অন্যের সম্মতি ও নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করা হয়।
আমাদের দাবি প্রতিশোধ নয়—জবাবদিহি।
আমাদের দাবি অন্ধ আবেগ নয়—প্রমাণনির্ভর বিচার।
আমাদের দাবি কোনো ধর্মকে আক্রমণ করা নয়—ধর্ম, আইন ও নৈতিকতার নামে সংঘটিত সম্ভাব্য অন্যায়ের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা।
আমাদের দাবি কোনো জাতিকে অপমান করা নয়—বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা।
আমাদের চূড়ান্ত প্রশ্ন:
একটি চুমুর প্রকৃতি নির্ধারণে সম্মতি, প্রমাণ, আইন ও মানবিক মর্যাদার গুরুত্ব কোথায়? আর কোনো অপরাধের শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের সীমা কোথায়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রকাশ্যে, যুক্তি দিয়ে এবং ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে দিতে হবে।
আমরা আশা করি, সৌদি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেবে, বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে গুরুতর দণ্ডের মুখোমুখি হলে তাঁর অধিকার ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবিক মর্যাদা সবার জন্য।
ন্যায়বিচারও সবার জন্য।
প্রেমের স্বাধীনতা, ব্যক্তির সম্মতি, ধর্মীয় নৈতিকতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে কোনো রাষ্ট্রই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়।
আজকে যদি নজরুল আর সিতি আমেরিকার নাগরিক হতো, সৌদি বাদশার বাপের সাধ্য ছিল ওদের শিরশ্ছেদ করার!? ‘মিসকিন’ দেশের বলে, জানানোরও দরকার মনে করেনি।
আমি ব্যবসায়িক কারণে প্রায় বছরখানেক আরবে ছিলাম। আরবদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। আমার অভিজ্ঞতায়, সেখানে ধর্মীয় নৈতিকতার বুলি আর বাস্তবতার মধ্যে বিরাট ব্যবধান আছে।
প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার অপরাধে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। বাংলাদেশের কনস্যুলেটের দাবি, শিরশ্ছেদের আগে তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। একজন মানুষের অপরাধের বিচার হলেও ন্যায্য বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন কি এতটাই মূল্যহীন? আজকে যদি নজরুল আর সিতি আমেরিকার নাগরিক হতো, সৌদি বাদশার বাপের সাধ্য ছিল ওদের শিরশ্ছেদ করার!? ‘মিসকিন’ দেশের বলে, জানানোরও দরকার মনে করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। অসংখ্য নারী নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরেছেন; কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও ফিরেছেন।
মদ, নারী, অহংকার, ভোগ-বিলাসিতা—এইগুলোই আরবদের নিত্যদিনের কাজ। যারা ওই দেশে ব্যবসা করতে যায়, তাদের অর্থ লুটে নেয় ওরা। এগুলো ছাড়া আমি আরবদের মধ্যে আর ভালো কিছুই দেখিনি। গোপনে ওই দেশে সবই বৈধ, কিন্তু প্রকাশ্যে করলেই মাথা কাটা যাবে। যারা আরবে থাকেন, তারা আমার কথার সত্যতা জানেন।
আমরা প্রতিবছর হজ ও ওমরাহসহ বিভিন্ন কারণে সৌদি আরবে কোটি কোটি ডলার দিয়ে আসি। আর ওই টাকা দিয়ে আরবেরা ফিলিস্তিন ও ইরানের ওপর বোমা ফেলে। নবী মুহাম্মদের দেশ বলে ধর্মের অবমাননা হয় কি না, সেই ভয়ে আপনারা কেউ এই প্রশ্নগুলো তুলছেন না।
আপনারা দেখছি আসলেই আগে মুসলমান, পরে মানুষ—তাও সবাই না, কেউ কেউ!
ধর্মীয় পরিচয়ের আগে মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের জীবন, মর্যাদা ও অধিকারের মূল্য দিতে শিখুন। ধর্মের নামে অমানবিকতাকে বৈধতা দেওয়া যায় না।
সৌদি আরবের মতো একটি অমানবিক বর্বর দেশকে বয়কট করুন। আমি অনেক আগেই করেছি, এবার আপনাদের পালা।
সৌদিতে চু*মু খাওয়াতে নজরুল ও সিতি আক্তারের সাথে যা ঘটছে‚ সেটা অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় কেন? গত ৭ বছরে অন্তত ৭০ হাজার না*রী গৃহকর্মী নি’র্যা/তনে শি*কার হয়ে বাংলাদেশে ফিরছে‚ এদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনই ক/ফিনব’ন্ধি হয়ে! যার প্রায় সিংহভাগ সৌ’দি থেকে!
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে‚ অধিকাংশ গৃহকর্মীরা সৌদিতে যৌ*ন নি/পীড়নে শি*কার হয়। পুলিশ স্টেশনও সব জানে। তারা শুধু দেশে ফিরানোর ব্যবস্থাটা করে দেয়‚ ব্যাস। পুলিশের দায়িত্ব এতটুকুই। অথচ যে শরিয়াহ আইনের দো’হাই নিয়ে নজরুল ও সিতি আক্তারের শি–*চ্ছেদ করা হলো! সেই আইন তাদের দেশের নাগরিকদের দ্বারা বাংলাদেশি নারীদের নি/র্যা’ত’নে’র বেলায় ব্যবহার হয় না। এমনকি একই আইনের অধীনে শ্রীলঙ্কান নাগরিক আনোজন শি’বরাজারও মৃ/ত্যুদ/ন্ড হয়েছিল। সেটাও পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয় বা’তিল করেছে!
এই সবকিছুর পিছনে প্রশ্ন থেকে যায় দুইটা-
১.আমরা মি/সকিন দেশ। সৌদি আমাদের গণনার টাইম নাই।
২. কূ’টনৈতিক ব্যর্থতা। উদাহরণ- শ্রীলঙ্কান নাগরিকের সাঁ/জার ব্যাপারটা দেখুন। তাদের কূ’টনৈতিক পদক্ষেপের জন্য সৌদি সরকার তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বা’ধ্য হয়। কিন্তু আমাদের নাগরিকদের দ//ন্ড কার্যকর করার আগে একটা বার দূতাবাসকে চিঠি পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা! দূতাবাস বা ভি’কটিমের পরিবার জানতেও পারেনি‚ তাদের ছেলে-মেয়ে স্পেসিফিক কোন ধরনের কা/জটা করেছে!
সৌদিতে শরিয়া আইনের মৃ//ত্যুদ’ন্ডের তালিকায় সর্বোচ্চ আসনে পাকিস্তান থাকলেও এর কয়েক নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ! সৌদির ভাষায় আমরা “ফু*গারা ওয়া মা*সাকীন!”
সৌদি আরবে চু/মু খাওয়ার অ/ভিযোগে দুই বাংলাদেশি প্রবাসী—নজরুল ইসলাম ও সিতি আক্তারের মৃ **দণ্ড
কা/র্যকর করা হয়েছে। খবরটা শুনেছেন নিশ্চয়ই?
খবর পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের মধ্যে যেন আনন্দের জোয়ার! তারা মহা উৎসাহে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলছেন। কিন্তু একটু থমকে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছেন কি—এই দ/ণ্ড কি আসলেই সুবিচারের খাতিরে, নাকি আমরা গরীব এবং দুর্বল দেশের প্রবাস বলে আমাদের জীবনের কোনো দাম নেই?
চলুন, পর্দার পেছনের কটু সত্যগুলো একটু সহজ ভাষায় বুঝে নিই:
১. মৃ**দণ্ড কিসের ভিত্তিতে?
যে অপ/রাধের কথা বলা হচ্ছে, ইসলামি ফিকাহ অনুযায়ী তা ‘হদ’ (কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত শা/স্তি) নয়, ছিল ‘তা’যির’ (বিচারকের ইচ্ছাধীন শা/স্তি)। পবিত্র স্থানের মর্যাদা ন/ষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে, কিন্তু তা কি আদৌ মৃ**দণ্ড পাওয়ার মতো অ/পরাধ ছিল? নাকি অন্য কোনো দেশের নাগরিক হলে শা/স্তি হতো স্রেফ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া?
২. দূতাবাস তখন কী করছিল?
সবচেয়ে ল/জ্জাজনক বিষয় হলো—আমাদের দুই নাগরিকের বিচার হলো, ফাঁ ** হয়ে গেল, অথচ সৌদিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস নাকি কিচ্ছু জানতেই পারল না! কোনো নোটিশ নাই, কোনো আইনি সহায়তা নাই।
আন্তর্জাতিক ভিয়েনা প্রটোকল অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রে/প্তার হলে তার দূতাবাসকে জানানোর নিয়ম। অন্য দেশের প্রবাসীরা বিপদে পড়লে তাদের সরকার
ঝাঁ/পিয়ে পড়ে সা/জা মওকুফ করায় (যেমন শ্রীলঙ্কা বানিয়ে দেখিয়েছে), আর আমাদের প্রবাসীরা ম/রে যাওয়ার পর দূতাবাস খবর পায়! হায়রে দেশ!
৩. আইনের এই দ্বিমুখী নীতি কার জন্য?
আজ পবিত্রতার দোহাই দিয়ে দুই বাংলাদেশির জীবন
কে/ড়ে নেওয়া হলো। অথচ বছরের পর বছর ধরে শত শত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী সেখান থেকে পা/শবিক নি/র্যাত* ও ধর্ষ** শি/কার হয়ে দেশে ফিরছেন, অনেকে ফিরছেন কফিনে ব/ন্ধি হয়ে। সেইসব অ/পরাধীদের ক্ষেত্রে সৌদি আইনের ওই কঠোরতা কোথায় গিয়ে লুকায়? তখন কি শরিয়াহ আইন কাজ করে না?
স্বদেশী প্রবাসীদের র/ক্তের ঘামে আমাদের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, অথচ বিদেশে তাদের কোনো নিরাপত্তা নাই, দেশে তাদের কোনো মূল্যায়ন নাই। এমনকি মৃ**র পরও তারা পায় কেবল অন্যায্য বিচার আর নিজের দেশের মানুষের বি/দ্রূপ!
আইন ও বিচার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত—তা সে ধনী হোক বা গরীব, সৌদি হোক বা প্রবাসী বাংলাদেশি।
আপ/নার কী মনে হয়? আমাদের সরকারের কূটনৈতিক ব্য/র্থতা আর এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে কি আমাদের চুপ থাকা উচিত?
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিচারপ্রক্রিয়া থেকে মরদেহ হস্তান্তর, অজানা বহু তথ্য
••••••••••••••••••••••••••••
সৌদি আরবের মক্কায় এক বাংলাদেশি নারী ও এক পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও প্রকাশিত বিবরণে অপরাধের ধরন ও প্রমাণের বিস্তারিত নেই। বাংলাদেশ সরকারও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য চেয়েছে। ফলে ঘটনাটি ঘিরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে কার্যকর করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর উচ্চতর আদালতে রায় বহাল থাকে এবং রাজকীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে দণ্ড কার্যকর হয়। তবে প্রকাশিত বিবৃতিতে মামলার বিস্তারিত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও রায়ের পূর্ণ যুক্তি তুলে ধরা হয়নি।
‘অনৈতিক কাজ’ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে কী বোঝানো হয়েছে, কোন আইনি বিধানে অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে তাঁদের আইনজীবী ও দোভাষীর সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, অভিযোগ ও বিচারিক কার্যক্রম তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন কি না এবং আত্মপক্ষ সমর্থন ও আপিলের সুযোগ কতটুকু পেয়েছিলেন, তারও বিস্তারিত জানা যায়নি।
জনসমক্ষে বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়ার অর্থ আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছিল না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে বিচার ন্যায্যভাবে পরিচালিত হয়েছিল কি না, তা মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি। গণমাধ্যমে খবর পাওয়ার পর ১৫ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত চাওয়া হয়। ১৭ অক্টোবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও জানান, বাংলাদেশ তখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, গ্রেপ্তার ও বিচার চলাকালে বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তাঁরা পেয়েছিলেন কি না এবং কনস্যুলার সহায়তার বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে কনস্যুলেট আগে জানত না—এই তথ্য থেকেই তাঁরা কোনো আইনি সহায়তা পাননি, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।
দণ্ডিত দুজন কী ধরনের ভিসা বা অনুমতিতে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন, কত দিন ধরে সেখানে ছিলেন এবং তাঁদের পেশা কী ছিল—এসব তথ্যও স্পষ্ট নয়। তাঁরা কর্মী হয়ে থাকলে চাকরিদাতা বা স্পনসর কে ছিলেন এবং গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার ভূমিকা কী ছিল, তা প্রকাশিত বিবরণে পরিষ্কার হয়নি। এসব তথ্য তাঁদের পরিচয়, সহায়তা পাওয়ার পরিস্থিতি এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দণ্ড কার্যকরের পর মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে কি না এবং মরদেহ হস্তান্তর বা দাফনসংক্রান্ত কী সিদ্ধান্ত হয়েছে—পর্যালোচিত প্রতিবেদনগুলোতে তার নিশ্চিত বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের মতামত নেওয়া হয়েছে কি না এবং বাংলাদেশ মিশন এ বিষয়ে কী উদ্যোগ নিয়েছে, তা-ও জানা প্রয়োজন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিও সংশ্লিষ্ট সৌদি বিবৃতি উদ্ধৃত করে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে কিভাবে কার্যকর করা হয়েছে তা বর্ণনা করার ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না।
দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, রায়ের যুক্তি, আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা এবং মরদেহের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হলে বিচারপ্রক্রিয়া ও দণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানা গেলেও তার আগে ও পরের গুরুত্বপূর্ণ বহু প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেছে।
নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি আরবে। এরা দুজনই প্রবাসী বাংলাদেশী। এদের অপরাধ, দীর্ঘদিন পর মসজিদ চত্বরে তাদের দেখা হয়। তারা আনন্দে পরস্পরকে চুম্বন করেন ( শারীরিক সম্পর্ক) ।এই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন এক পাকিস্তানি। ওই পাকিস্তানীর ২০ বছরের দন্ড হয়েছে। বাংলাদেশী দুজনের মৃত্যুদণ্ড। প্রকাশ্য চুম্বন ইউরোপ আমেরিকায় কোন অপরাধ না। সৌদি আইনে অপরাধ। সৌদি আইন নিয়ে আমার কোন কথা নেই। কথা হলো, এইসব দরিদ্র শ্রমিকরা, আইনি সহায়তা পেয়েছে কিনা। বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তারা বিষয়টি জেনেছে। আগে জানলে নিশ্চয়ই একজন ভালো আইনজীবী, তারা নিয়োগ করতে পারতো। মৃত্যুদণ্ড থেকে সাজা কমিয়ে আনা যেতো। কিন্তু সৌদি সরকার, বাংলাদেশকে এ বিষয়ে জানানোর প্রয়োজনই মনে করেনি। ইতোপূর্বে শ্রীলংকার সরকার, সৌদিতে তার নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড থেকে, মুক্তিতে নিয়ে আসে। প্রশ্ন হচ্ছে, সৌদি সরকার বাংলাদেশকে কেবল কামলা হিসেবেই বিবেচনা করবে, নাকি বন্ধু প্রতীম দেশ হিসাবে? বাংলাদেশ সরকারের উচিত, এ বিষয়ে সৌদির ব্যাখ্যা দাবি করা। আর গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে, যেসব মা-বোনেরা সৌদিতে যান, তাদের অনেকেই ধর্ষণ ও হেনস্তার শিকার হন। ওই সব ধর্ষণকারী সৌদি নাগরিকের, কয়জনের ফাঁসি হয়েছে,আমাকে বলবেন!
সামান্য একটা কপালে চুমুর জন্য মৃ*ত্যুদন্ড !!
তাদের যখন মসজিদের সিকিউরিট গার্ড পাকরাও করে তখন তারা সেজদারত ছিল।
সুন্নাত নামাজ পরে সবকিছুর জন্য সস্তুষ্টি প্রকাশের জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করে । মোনাজাত শেষে বউ এর কপালে স্বামী আলতো করে সন্তুষ্টির চুমু দেয় । তাও মমজিদের বারান্দায়।
সেটা এক পাকিস্তানী দেখে তার মোবাইল দিয়ে সাথে সাথে ভিডিও করে এবং সিকিউটি ডেকে নিযে এসে । তার সামনে ব্যাপারটা এমনভাবে উস্থাপন করে যেন তারা কোন অনৈতিক কাজ করছিল।
সিকিউরিটি তাদের পুলিশের হাতে সোপোর্দ করে।
পাকিস্তানী আরবি জানে আর ওরা আরবীি বোঝে না।
তাই কে কি বলছিল কিছুই বুঝতে পারে না।
লা*শ এখনো বাংলাদেশে আসে নাই। অন্তত এরকম কোন খবর পাওয়া যায় নাই।
তাদের নাম ছাড়া আর কোন ঠাকানা ও জানা যায় নাই।
ওই পাকিস্তানীর কি লাভ হয়েছে এই নব দম্পতিকে এভাবে ফাসিঁয়ে দিয়ে জানি না।
তবে সৌদি আরবের এসব স্বেচ্চাচারীতার বিরদ্ধে কথা বলার সময়ে এসেছ। ওরা জাতি হিসাবে খুবই ভোগ বিলাসী প্রিয়। নিজেরা সারাদিন ব্যাভিচারে মত্ত থাকে । কিন্তু প্রবাসী বা অন্যদেশের নাগরিকদের বেলায় তাদের আইনের দন্ড দাড়িয়ে যায়।
তাও আবার আমাদের মত দেশের নাগরিকদের বেলায়।
আমেরিকার কেও হলে বাপ বাপ করে ছেড়ে দিত।
লেখক পরিচিতি
ফিল্ডমার্শাল সাংবাদিক কবি এস.পি. সেবু
ছায়া মূখ্যমন্ত্রী: জালালাবাদ কিংডম সিলেট (JKS), সিলেট প্রদেশ, ছায়া সরকার বাংলাদেশ।
সিএম ও ফুয়েলার: স্বপ্নবাংলা পরিষদ, States Of Asian Union.