March 7, 2026, 8:12 am
সংবাদ শিরোনাম
উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এমপি নূরুলকে ফুলেল সংবর্ধনা; নির্মাণকাজের ধীরগতিতে হতাশ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা; ডিভোর্স হওয়া নারীর ‘অপহরণ’ চিৎকার—গুজবে শ্রীমঙ্গলে মবের গণপিটুনির শিকার অসুস্থ সন্তানের বাবা, স্বজন ও চালক, গাড়ি ভাঙচুর; রিয়াদে প্রবাসী বগুড়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার আয়োজন; সিরাজগঞ্জ তাড়াশে ২ সাংবাদিক হামলার শিকার,থানায় অভিযোগ সৌদিআরব “বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের” উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত; বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাব ও বাংলাদেশ ভূমিহীন ও গৃহহীন হাউজিং লিমিটেডের উদ্যোগে আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সাংবাদিককে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতের অভিযোগে তহশিলদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি বিশ্বম্ভরপুরে বাঁধ পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এমপি নূরুলকে ফুলেল সংবর্ধনা;

দানবাক্স নয়, মানুষের দানেই ৫ হাজারের তাবারুক—ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারে নতুন ইতিহাস

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২নং সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও এলাকায় অবস্থিত হযরত ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সহিংসতা, মামলা-মোকদ্দমা ও দানবাক্সকেন্দ্রিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্তমান কমিটি।

এবার আর কোনো দানবাক্স নয়, রাস্তার কালেকশনও নয়—সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আয়োজন করা হয় প্রায় ৫ হাজার মানুষের তাবারুক। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মাজারকে কেন্দ্র করে অতীতে দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দীর্ঘস্থায়ী আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও বিভক্তি সৃষ্টি হয়।

বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়—মাজারে আর কোনো দানবাক্স থাকবে না। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই এবারের ওরশ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বৃহৎ তাবারুক বিতরণ।
এই আয়োজনে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন,
“দানবাক্সকে কেন্দ্র করেই এতদিন ঝগড়া-ফ্যাসাদ ছিল। এবার দানবাক্স ছাড়া আয়োজন করে প্রমাণ করা হয়েছে—ইমান ও বিশ্বাস টাকা দিয়ে নয়, মানুষের মন দিয়েই গড়ে ওঠে।”
বর্তমান কমিটির একজন সদস্য জানান,
“আমরা চেয়েছি মাজার যেন আর ব্যবসার জায়গা না হয়। স্বচ্ছতা থাকলে মানুষ এমনিতেই পাশে দাঁড়ায়—এই আয়োজন তার প্রমাণ।”

এলাকাবাসীর মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি সফল আয়োজনই নয়, বরং ভবিষ্যতে মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতা বন্ধের পথও দেখিয়েছে। দানবাক্সবিহীন এই আয়োজন এখন বাঁশখালীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেজ লাইক করুন
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com