বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নে অনুমোদনবিহীন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘শাহারিন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ দীর্ঘদিন ধরে চড়া সুদে অবৈধ আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করে আসছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক অভিযানে।
গত বৃহস্পতিবার (০৭ জানুয়ারি) গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে অবগত করে স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে অভিযান চালান। অভিযানে জানা যায়, কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর ধরে চড়া সুদে ঋণ প্রদান এবং এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট) এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুমোদনের নামে ভুয়া নিবন্ধনপত্র ব্যবহার করছে। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির অফিসে গেলে কর্তৃপক্ষ ‘জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড কমার্স’-এর একটি মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যবসা লাইসেন্স দেখালেও ক্ষুদ্র ঋণদান কিংবা আর্থিক লেনদেন পরিচালনার মতো কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।
একপর্যায়ে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত (৩৮) সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং দাম্ভিক ভঙ্গিতে হুমকি প্রদান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতে তিনি উপজেলার একাধিক শীর্ষ নেতার নাম ভাঙান এবং এক শ্রমিক নেতার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবুর বাশার রাঢ়ী জানান, “শাহারিন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে বানারীপাড়ায় কোনো সমবায় সমিতির নিবন্ধন নেই। ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান বা এফডিআর পরিচালনার জন্য অবশ্যই মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA)-এর নিবন্ধন থাকতে হয়। এ ধরনের নিবন্ধন ছাড়া পরিচালিত সব ঋণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ।”
প্রসঙ্গত, অতীতে বানারীপাড়ায় এ ধরনের একাধিক লাইসেন্সবিহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কৃত অর্থ আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। ফলে শাহারিন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনে কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখে শতশত গ্রাহক এখন চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
অন্যদিকে, গোপনে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করে সুদসহ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সর্বস্ব হারানোর পথে রয়েছে বহু পরিবার। এতে করে এলাকায় বাড়ছে ঋণগ্রস্ততা ও সামাজিক সংকট।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
১১/০১/২৬
মোঃ সাব্বির হোসেন