আমির হোসেন স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ সুবিধা গ্রহণ, মাদক ও চোরাচালান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর-এর একটি দায়িত্বশীল সূত্র। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গঠিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন—সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ সার্কেল) এবং জেলা পুলিশের একজন পুলিশ পরিদর্শক।
অভিযোগে বলা হয়, ওসি আমিনুল ইসলাম আসামিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে উৎকোচ আদায়, একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার হিসেবে গ্রহণ, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের নামে মাসোহারা আদায়সহ নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন।
এদিকে, ওসি আমিনুল ইসলামের কথিত উৎকোচ বাণিজ্যের মূলহোতা হিসেবে তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হাফিজুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে। তবে তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশে ওসিদের পদায়নের সময় ওসি আমিনুল ইসলাম তাহিরপুর থানায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে কর্মরত থাকাকালে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণের বিনিময়ে এলাকার এক বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বীকে কয়েক শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসিয়ে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত ওই মুরুব্বীকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। এরপর ভুক্তভোগী ব্যক্তি পুলিশের আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ওসি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তাহিরপুর থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি আমিনুল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। একাধিক মামলার আসামিকে নতুন মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে উৎকোচ হিসেবে একটি রঙিন টেলিভিশন গ্রহণ করেন তিনি।
এছাড়া বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হাফিজুল ইসলাম, থানার এসআই পংকজ দাস, দীপক চন্দ্র দাস, টেকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রিপন, মোটরসাইকেল চালক চোরাকারবারি উজ্জ্বল এবং পুলিশের কথিত সোর্স মাদক কারবারি বাবলুকে নিয়ে একটি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভারত থেকে চোরাচালানের পথে আসা বিদেশি মদ, গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট, ভারতীয় নাসির বিড়ি, কয়লা, চুনাপাথর, কসমেটিকস, খাদ্যসামগ্রী, থান কাপড় ও মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের বিপরীতে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হাফিজুল ইসলাম উপজেলার ইজারাবিহীন পাটলাই ও মাহারাম নদীর উৎসমুখ এবং যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ ধ্বংসকারী সেইভ ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে খনিজ বালু ও পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ আদায় করছেন।
তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র।