খালেদ হাসানঃ দেশের কুরিয়ার ও লজিস্টিক খাতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একটি ডেলিভারি ভ্যান ছিনতাই এবং পরে একটি হাবে হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
রংপুর থেকে উঠে আসা প্রতিষ্ঠান স্টেডফাস্ট কুরিয়ারকে ঘিরে এসব ঘটনার পর ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে—দেশীয় উদ্যোক্তারা কতটা নিরাপদ এবং তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সম্প্রতি ঢাকার বছিলা এলাকায় একটি ডেলিভারি ভ্যান ড্রাইভারের কাছ থেকে ছিনতাই করা হয়। পরে ট্রাকটি মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকার আল্লাহ করীম মসজিদ মার্কেটের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলে পরে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের একটি হাবে হামলার ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, হামলার পেছনে কী কারণ রয়েছে কিংবা দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না- এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
বাংলাদেশে ই-কমার্স এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুরিয়ার ও লজিস্টিক খাতও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুরিয়ার পরিবহনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে এর প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন অনলাইন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কর্মী এবং সাধারণ গ্রাহকরাও।
রংপুরের উদ্যোক্তা কে. এম. রেদওয়ানুল বারি জিয়নের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত স্টেডফাস্ট কুরিয়ার বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
একসময় উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল কর্মসংস্থানের সংকট। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্টেডফাস্ট শুধু একটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি বহু তরুণের কর্মসংস্থান ও নতুন সম্ভাবনার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
পাশাপাশি ‘Steadfast Community Plus’ এবং ‘Packly’-এর মতো উদ্যোগও তরুণদের নতুন সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মহলের অনেকের মতে, যদি দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
তাদের আশঙ্কা-
- নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে;
- বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে;
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হতে পারে;
- আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, রাজধানীর বাইরে থেকে উঠে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এমন উদ্যোগগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের বিষয় নয়; বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও এটি জড়িত।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & imo 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩