নিজস্ব প্রতিবেদক,
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলোচিত এবং যুবদলের আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কৃত নেতা ওয়াসিম মৃধাকে চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে যে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই মামলার বাদীই দাবি করেছেন—তিনি অভিযোগপত্রে ওয়াসিম মৃধার নাম উল্লেখ করেননি এবং এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তিনি অবগত নন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে ২০২৬ বানারীপাড়া থানায় দায়ের হওয়া মামলা নং-৪-এ ওয়াসিম মৃধাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলায় বেআইনি জনতা গঠন, মারধর, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়াসিম মৃধার বিরুদ্ধে এর আগে আরও ৮টি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ এ মামলাসহ তার বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পূর্বের মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মামলা নং-০৭(৯)/২৪, ১৫(১)/২৫, ০৫(১১)/১২, ০৮(৯)/১২, ০৫(৯)/১২, ০৮(২)/২০০৯, ১০(১)/২৩ এবং ০৪(৮)/২৪।
তবে মামলার বাদী মুরাদ হোসেন (মুবাদ) ভিন্ন দাবি করে বলেন,
“ইলুহারের স্থানীয় কয়েকজন চাঁদাবাজ আমার কাছে চাঁদা দাবি করায় আমি মামলা করেছি। কিন্তু ওই মামলায় ওয়াসিম মৃধার নাম উল্লেখ করিনি। আমার জানামতে, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।”
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওয়াসিম মৃধার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন,
“সুনির্দিষ্ট মামলায় আসামি হওয়ায় ওয়াসিম মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।”
এদিকে, বাদীর বক্তব্য এবং পুলিশের গ্রেফতার কার্যক্রমের মধ্যে দৃশ্যমান এই অসঙ্গতি নিয়ে বানারীপাড়ার রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। মামলার প্রকৃত ঘটনা এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখন স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল বিরাজ করছে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & imo 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩