February 11, 2026, 12:05 am
সংবাদ শিরোনাম
ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের বিরুদ্ধে জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ; তাড়াশে ধানের শীষের প্রচারনায় উপজেলা বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠিত “বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় উন্নয়ন প্রকল্পে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ”। রাজশাহীতে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ জনতার প্রার্থী আব্দুল মান্নানের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন, নেতাকর্মীদের ঢল তাড়াশে অবৈধ পুকুর খননের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা তাড়াশ উপজেলা মনোহরপুর গ্রামে আবাদি জমিতে জোরপূর্বক সেচ ও প্রাণনাশের হুমকি ‎অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ ‎ বাঁশখালীতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও তাজেদারে মদিনা সুন্নী কনফারেন্স সম্পন্ন দানবাক্স নয়, মানুষের দানেই ৫ হাজারের তাবারুক—ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারে নতুন ইতিহাস

জাফর ইকবালের হাসি, গান, অভিনয় সব কিছুই আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে: ববিতা।

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ

চিত্রনায়ক জাফর ইকবালকে স্মরণ করতে গেলে আমার সামনে আগে ভেসে ওঠে একজন অসাধারণ মানুষ। নায়ক হিসেবে তিনি যেমন দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন, সহশিল্পী হিসেবেও ছিলেন ভীষণ মানবিক। আমাদের জুটি দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছিল, সেটা আজও মানুষ মনে রেখেছে। একসঙ্গে প্রায় চল্লিশটির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছি দুজন। প্রতিটি কাজের অভিজ্ঞতাই আলাদা, প্রতিটি স্মৃতিই মূল্যবান। জাফর ইকবালের মধ্যে একটা সহজাত সৌন্দর্য ছিল, যা পর্দা ছাড়িয়েও মানুষকে আপন করে নিত।

তিনি হ্যান্ডসাম ছিলেন, গিটার হাতে গান গাইতে পারতেন অসাধারণভাবে। শুটিংয়ের ফাঁকে কখনও ইংরেজি গান, কখনও বাংলা সুরে সেট মাতিয়ে রাখতেন। শরীরটা তখন ভালো থাকত না, নানা অসুখে ভোগতেন, কিন্তু সেটে কখনও তা প্রকাশ করতেন না। হাসিমুখে কাজ করে যেতেন, যেন কিছুই হয়নি। এই জায়গাটায় তিনি সত্যিই ব্যতিক্রমী ছিলেন। আমাদের অভিনীত ‘অবুঝ হৃদয়’ ছিল সুপার হিট একটি সিনেমা। ব্যাংককে শুটিং হয়েছিল, আমাদের সঙ্গে চম্পা ছিল। ত্রিভুজ প্রেমের গল্প, আর শুটিংয়ের ফাঁকে ছিল অজস্র হাসি-ঠাট্টা। সিনেমাটি টেলিভিশনে প্রচার হলে আজও দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখে।

জাফর ইকবালের অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন, চোখের ভাষা– সবকিছু মিলিয়ে আজও মানুষের মনে গেঁথে আছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম ছবি ‘মামা ভাগ্নে’। এরপর ‘হারজিৎ’ দিয়ে আমি দর্শকদের ভালোবাসা পাই। আমাদের জুটির প্রথম দিককার এই ছবিগুলোর গান ছিল অসাধারণ, যা আজও মানুষ গুনগুন করে। জাফর ইকবালকে এখনও সবাই চিরসবুজ নায়ক বলেই ডাকে, এটা তাঁর স্বীকৃতি। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অতিভদ্র, মার্জিত এবং সহানুভূতিশীল।

কারও নামে বদনাম করা কিংবা কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে আমি তাঁকে কখনও দেখিনি। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই দিনে তাঁকে আরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর হাসি, গান, অভিনয় আর মানবিকতা আজও আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে। দর্শকের ভালোবাসা তাঁকে যে উচ্চতায় নিয়েছিল, তা খুব কম শিল্পীর ভাগ্যে জোটে। ব্যক্তিগত জীবনে সংযমী এই মানুষটি আলোড়ন পছন্দ করতেন না। কাজই ছিল তাঁর পরিচয়।

পর্দায় রোমান্টিক নায়ক, বাস্তবে দায়িত্বশীল সহকর্মী– এই দ্বৈততার সৌন্দর্য আজও আমাকে মুগ্ধ করে। সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি অমলিন থাকে। তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই সেই স্মৃতিগুলো নতুন করে জেগে ওঠে। তাই তাঁর চলে যাওয়ার দিনটিতে শুধু শোক নয়, কৃতজ্ঞতাও জানাই। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন ভদ্রতা, পেশাদারিত্ব আর শিল্পের প্রতি সততা।

এই শিক্ষা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে, আলো জ্বালিয়ে রাখবে, নিঃশব্দে। এই স্মরণ লেখার মধ্য দিয়ে আমি আবারও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, ভালোবাসা জানাই এবং প্রার্থনা করি তিনি যেন মানুষের হৃদয়ে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকেন। কারণ তিনি আমাদের সিনেমার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই আজও।
অনুলিখন: এমদাদুল হক মিলটন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেজ লাইক করুন
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com