নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর নাম উঠে এসেছে—মাসুদ। সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও ৫ আগস্টের পর বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতার ছত্রছায়ায় তার প্রভাব বজায় থাকা নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন ফুঁসছেন।
ভোটের নামে জালিয়াতি ও ক্ষমতাধরদের সাথে ঘনিষ্ঠতা
মাসুদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো নির্বাচনী গণতন্ত্রকে পদদলিত করা। স্থানীয় সূত্র এবং এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী:
২০১৮ সালের ডামি নির্বাচন: মাসুদ তার এলাকা ইদলপুর ভোট সেন্টারে ২০১৮ সালের 'ডামি' নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এজেন্ট ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফারুক চৌধুরীর নির্দেশে একাই ব্যালট পেপারে প্রায় ৩০০ সিল মেরেছিলেন। এই ভোট ডাকাতির বিষয়টি আজও এলাকাবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে রেখেছে।
২০২৪ সালের অভিযোগ: একইভাবে, ২০২৪ সালের নির্বাচনেও ফারুক চৌধুরীর নির্দেশে দিনের ভোট রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
ক্ষমতাধরদের সাথে সখ্যতা: মাসুদ কেবল ফারুক চৌধুরীর নৌকার পক্ষেই কাজ করেননি, তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলের সাথেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলতেন। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন, "আমি যদি এখনো সোহেলের কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাই বলার সাথে সাথে দিয়ে দিবে। আর আকতার চেয়ারম্যানকে যা বলবো তাই শুনবে আমি যেখানে যখন শুবিধা পাবো আমি সেখানেই যাবো। আমার কেও কিছু করতে পারবেনা। আমার কাছ থেকে সবাই সুবিধা পাই, আমি সবাইকে টাকা দিয়ে চলি তাই আমার কোনো প্রকার সমস্যা হবেনা।
বিএনপির বিজয় ছিনতাইয়ের অভিযোগ
মাসুদের বিরুদ্ধে শুধু ভোট জালিয়াতির অভিযোগই নয়, বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে:
২০১৮ সালের ওই নির্বাচনে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপি নেতা নাসিরুদ্দিন বাবু বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করলেও, ফারুক চৌধুরীর নির্দেশে আক্তারুজ্জামান আকতারের মাধ্যমে তাঁর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এই কাজে মাসুদ ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মূল সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ।
আন্দোলন-সংগ্রামে সহিংসতার সংশ্লিষ্টতা
নির্বাচনী কারচুপির পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ও মাসুদের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ ২০১৮ সালের বিএনপির কর্মসূচিতে সহিংসতার সাথে জড়িত ছিলেন।৫ আগস্টের পর কেন বিএনপির 'আস্থাভাজন'?
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হলো ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর মাসুদের ভূমিকা। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত ও ভোট ডাকাতির মূল হোতা হওয়া সত্ত্বেও, কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সহযোগিতায় তিনি এখনো দেওপাড়া ইউনিয়নসহ গোটা গোদাগাড়ী উপজেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন:
মাসুদ আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত ভাবে জড়িত থাকলেও, প্রশাসন এখনো তাকে গ্রেফতার করছেন না কেনো?
বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ:
এমন ব্যক্তির বিএনপির সহযোগিতায় এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তাকে কেনো এখনো এরেস্ট করছে না প্রশাসন?
গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন সোচ্চার। তাঁদের দাবি:
মাসুদকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই ভোট জালিয়াতি
এবং ক্ষমতাধরদের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও তাঁরা মনে করছেন।
মাসুদের এই প্রভাব এবং কিছু স্থানীয় বিএনপি নেতার সাথে তার সখ্যতা গোদাগাড়ীর রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 0044 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩