প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১২, ২০২৬, ৯:২৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৬, ২০২৫, ১:২৩ এ.এম
সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনে কে পাচ্ছেন বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন
আলহাজ সরকার টুটুল সিরাজগঞ্জ তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এ আসনে এক ডজনেরও বেশি প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও মূলত গুলশান কার্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর, ভিপি আইনুল হক, রাহিদ মান্নান লেলিন ও রাকিবুল করিম খান পাপ্পু প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ভোটের মাঠ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাহিদ মান্নান লেলিন রাজনীতিতে নতুন, তার পিতা জনপ্রিয় এমপি ছিলেন। পিতার ইমেজ কাজে লাগিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠানার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগ আছে।
ভিপি আইনুল হকের ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু। উপজেলা যুবদলের সভাপতি, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। অনেকগুলো রাজনৈতিক মামলায় কয়েকবার জেলে খেটেছেন তিনি। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল হান্নান চেয়ারম্যানকে পুনর্বাসন ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় দল থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা থাকলেও এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
রাকিবুল করিম খান পাপ্পু জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ক্লিন ইমেজের দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দূর সম্পর্কের ভাগিনা তিনি। পাপ্পু বিগত সরকারের সময় দলকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে এ আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কাছে পৌঁছাতে এখনও সময় লাগবে বলে মনে করছেন অনেকে। মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেকজন খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর। তিনি ছাত্রদল সভাপতি, যুবদল সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯ বছর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী ক্যাডার বাহিনীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বারবার। বিগত সরকারের আমলে মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে একাধিকবার জেল খেটেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত এনজিও জিকেএস ফাউন্ডেশনের সহাযতায় এলাকায় হতদরিদ্র ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাহায্য- সহযোগিতা করায় মানুষ তাকে এমপি হিসেবে চায়। তাড়াশে জুলাই আন্দেলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। তার ভাতিজা সাব্বির খন্দকার স্বীকৃত জুলাইযোদ্ধা। তিনি বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। উপজেলার দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তিনি ভোট পাবেন বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা। এ আসনে হিন্দু ও আদিবাসীদের প্রায় ৫০-৬০ হাজার ভোট রয়েছে। সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে উভয় সম্প্রদায় তাকে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেলিম জাহাঙ্গীর ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৬৫০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করলেও তৎকালীন মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের র্নিদেশে ইউএনও ফলাফল পরিবর্তন করে তাকে পরাজিত ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তার সংসদীয় এলাকার মানুষ মনে করছেন। এছাড়াও জাসাস কেন্দ্রীয় সদস্য রেজাউল করিম সরকারও এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিবেচনায় দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদী।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 0044 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩