
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক প্রার্থীকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। মনসুর আলম (২৮) নামের ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির একাধিক ছবি সামনে এসেছে। এ অবস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা যাচাই ও পুলিশি তদন্ত যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত মামলাসংক্রান্ত নথিতে মনসুর আলমের পিতার নাম আবু তাহের এবং ঠিকানা হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকা উল্লেখ রয়েছে। নথিতে টেকনাফ থানার এফআইআর নম্বর ৮০/৪২৮ ও ১৭ আগস্ট ২০১৮ তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর একটি ধারার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মনসুর আলম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর একাধিক ছবিতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি দেখা যায় বলে জানা গেছে। একটি ছবিতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান ও টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোস্তফাসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁকে সাক্ষাতের অবস্থায় দেখা যায়।
তবে এসব ছবির ভিত্তিতে তাঁর নির্দিষ্ট সাংগঠনিক পদ নিশ্চিত করা যায় না। একইভাবে, মামলাসংক্রান্ত নথি পাওয়া গেলেও মামলাটির বর্তমান অবস্থা, অভিযোগপত্র দাখিল কিংবা আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে সম্পন্ন হবে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাদক মামলা থাকলে পুলিশি যাচাইয়ে তা প্রমাণিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথির ভিত্তিতে তাঁকে নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হবে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিয়োগের জন্য পুলিশি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতে পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
গ্রাম পুলিশ স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পুলিশি যাচাই যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মনসুর আলমের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বর্তমান অবস্থা কী, তাঁর পুলিশি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও নিয়োগ কমিটির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মনসুর আলমের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।